প্রথমদিকে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই বাঁশের ফার্নিচার স্থানীয় বাজারে জায়গা করে নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদা শুধু জেলা নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। এখন এটি বিদেশি পর্যটকদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
কিভাবে তৈরি হয় এই ফার্নিচার
শিল্পীরা জানান, প্রথমে স্থানীয় বাঁশ সংগ্রহ করে তা ভালোভাবে শুকানো হয়। এরপর পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পুরো প্রস্তুত প্রক্রিয়া শেষে তৈরি হয় সোফা, চেয়ার, খাট, টেবিল, আলনা, ড্রেসিং টেবিলসহ নানা ধরনের আসবাবপত্র।
একটি বড় ফার্নিচার তৈরি করতে প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। ছোট ছোট পণ্য তুলনামূলক দ্রুত তৈরি হয়। এসব পণ্য অনেকেই শখের বশে কিনে থাকেন বলে জানিয়েছেন কারিগররা।
পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা
২০১৫ সালের পর থেকে মৌলভীবাজার পর্যটন এলাকা হিসেবে আরও পরিচিতি পাওয়ার পর বাঁশের ফার্নিচারের চাহিদা বেড়ে যায়। জেলার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে এখন এসব আসবাব ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পর্যটন খাতেও নতুন নান্দনিকতা যুক্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কম খরচে টেকসই ও সুন্দর ডিজাইনের কারণে এই ফার্নিচারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
উদ্যোক্তার সফলতার গল্প
আমির হোসেন সিরাজ জানান, শুরুর দিকে খুব বেশি সাড়া না পেলেও ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় হতে থাকে। এখন তিনি শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, দেশের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে ফার্নিচার রপ্তানি করছেন।
তিনি জানান, অনলাইন ও কুরিয়ার সেবার মাধ্যমেও এখন বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে এই বাঁশের ফার্নিচার শিল্প আরও বড় আকার ধারণ করতে পারবে। এটি শুধু একটি পারিবারিক উদ্যোগ নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় কুটির শিল্পে পরিণত হতে পারে।
বর্তমানে কাঠের তুলনায় কম দামে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।








