সরকারি জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মার্চ ও এপ্রিল মাসের একাধিক ক্রুড অয়েল চালান এখনো পৌঁছায়নি। এর ফলে রিফাইনারির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে বিপিসি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি বড় চালান দেশে পৌঁছালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
বিপিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শিপমেন্টে বিলম্ব হচ্ছে এবং কিছু কার্গো মাঝপথে আটকে পড়েছে। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত পরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আমদানি নির্ভরতা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। পুরোনো প্রযুক্তির কারণে ইস্টার্ন রিফাইনারি শুধু নির্দিষ্ট মানের ক্রুড অয়েলই প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। ফলে বিশ্ববাজারে তুলনামূলক সস্তা তেল পাওয়া গেলেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
একদিকে শোধনাগারের সক্ষমতা সীমিত, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি অস্থির—এই দুইয়ের চাপ মিলিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্প খাতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়েও চলছে বিতর্ক। প্রায় একচল্লিশ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পকে কেউ কেউ ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বললেও, অনেকে মনে করছেন এত বড় বিনিয়োগের আগে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত আধুনিকায়ন না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই শোধনাগার পরিচালনা আরও ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও বাড়বে।
বিপিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক এবং শিগগিরই সরবরাহ স্বাভাবিক হলে রিফাইনারি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসবে। পাশাপাশি পাইপলাইন ও নতুন টার্মিনাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন আরও সহজ করার উদ্যোগ চলছে।
তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমান সংকট শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং দেশের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








