Search
Close this search box.

বান্দরবানের পাহাড়ে হামের প্রকোপ, আক্রান্ত বাড়ছে শিশুদের মধ্যে

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিশুদের ওপর। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত জেলায় অন্তত ৮৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত আলীকদম উপজেলায়। সেখানে কুরুকপাতা বাজারে একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ৩০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ক্যাম্পে তিনজন চিকিৎসক, তিনজন নার্স, একজন ল্যাব বিশেষজ্ঞ এবং একজন সহকারী সিভিল সার্জন দায়িত্ব পালন করছেন।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্প চালুর প্রথম দিন ৬৫ জন এবং পরদিন আরও ৫৫ জন জ্বর ও লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে কয়েকজনের হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং আক্রান্তদের সেখানেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আলীকদমে অন্তত ২৮ জন, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ছয়জন করে রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ম্রো ও মারমা সম্প্রদায়ের শিশু। এছাড়া কুরুকপাতা ইউনিয়নের একটি আবাসিক হোস্টেলে প্রায় ১৫০ শিশুর মধ্যে অন্তত ৩৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসাসেবার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে নিতে খরচ বেশি এবং যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া কঠিন। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় জরুরি সহায়তা চাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে কয়েক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ থাকলেও তা সরকারিভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ অবস্থায় অস্থায়ী ক্যাম্পের বদলে স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের দাবি উঠেছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২২৬-এ পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতির গুরুতর দিক তুলে ধরছে।



সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ