ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি পাকিস্তান সফরের সময় দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে এই তালিকা তুলে দেন। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তালিকায় মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এসব বিষয়ে কোনো ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপ বা সামরিক চাপ তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি এই সীমারেখা অতিক্রম করে, তবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরান বলছে, এই পদক্ষেপ কোনো সরাসরি আলোচনার অংশ নয়, বরং বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে এটি পাঠানো হয়েছে। তেহরানের ধারণা, পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের মাধ্যমে বার্তা পাঠালে তা উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা ইরানের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কারণ পাকিস্তানের একদিকে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ও আঞ্চলিক সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ আছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের ‘রেড লাইন’ তালিকাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এখন ওয়াশিংটন এই বার্তার কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।







