চীন অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। এই পদক্ষেপের ফলে দুই পরাশক্তির মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরান সংশ্লিষ্ট তেল বাণিজ্যের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এতে চীনের একটি বড় স্বাধীন তেল শোধনাগারসহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। বিশেষ করে শানডং প্রদেশভিত্তিক রিফাইনারিগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে অবৈধ তেল বাণিজ্যের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে চীন এটিকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চীনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে বারবার চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও চাপ তৈরি করেছে। বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এ ধরনের আচরণ মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে আইনি ও অর্থনৈতিকভাবে জবাব দেবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশল নিয়েছে। এখন নজর রয়েছে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দিকে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে এই বিরোধ কীভাবে সমাধান হয় তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।







