পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবটি ধাপে ধাপে সমাধানের একটি রোডম্যাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রথমে যুদ্ধবিরতি, পরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং শেষ ধাপে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবের প্রথম ধাপে বলা হয়েছে, যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে আর কোনো আগ্রাসী হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। ইরানের মতে, স্থায়ী শান্তির জন্য এটি প্রাথমিক শর্ত।
দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি। এই পর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথটির ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে একটি স্থিতিশীল কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধাপে হরমুজ ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তৃতীয় ধাপে পৌঁছাতে হলে প্রথম দুই ধাপে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমঝোতায় আসতে হবে। সেই অবস্থায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ খুলবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনাকে ইরান শেষ ধাপে রেখেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট— যেকোনো চুক্তি হতে হবে এমনভাবে, যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে।
এর আগে ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টাব্যাপী এক দফা আলোচনায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। সেই ব্যর্থতার পরই পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ নতুন করে সংলাপের উদ্যোগ নেয়।
বর্তমানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে এবং ইরানও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালি ইস্যু এবং পারমাণবিক কর্মসূচি— এই দুই বিষয়ই আলোচনার মূল জটিলতা হিসেবে রয়ে গেছে।







