Search
Close this search box.

এক প্লেট চটপটিতেই ৭ কোটি জীবাণু, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

গরমের দিনে সামান্য স্বস্তির খোঁজে অনেকেই ভিড় করেন রাস্তার ধারের চটপটি, ফুচকা কিংবা শরবতের দোকানে। কম দামে সহজলভ্য এসব খাবার নগর জীবনের এক পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই স্বাদের আড়ালেই লুকিয়ে আছে ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র এক প্লেট চটপটিতেই থাকতে পারে প্রায় ৭ কোটি ক্ষতিকর জীবাণু, যার বড় অংশই মলমূত্রজাত ব্যাকটেরিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করলে ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, পেটের সংক্রমণসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রিট ফুড বিক্রির বেশিরভাগ জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না বলেই এই ঝুঁকি বাড়ছে। খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময় অপরিচ্ছন্নতা, খোলা পরিবেশে খাবার রাখা এবং ধুলাবালি ও যানবাহনের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা—সব মিলিয়ে দূষণের মাত্রা বাড়ছে।

অনেক বিক্রেতা অপরিষ্কার পানিতে প্লেট ধুয়ে সেই প্লেটেই খাবার পরিবেশন করেন, যা জীবাণু ছড়ানোর বড় উৎস। একই সঙ্গে খোলা খাবারের ওপর মাছি বসা বা ধুলা জমা সাধারণ ঘটনা, যা রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

স্ট্রিট ফুড তৈরিতে ব্যবহৃত পানির মান নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। অনেক ক্ষেত্রে পানির লাইনের সঙ্গে পয়ঃনিষ্কাশন লাইন মিশে গিয়ে পানি দূষিত হয়ে পড়ে। সেই পানি দিয়েই খাবার তৈরি বা বাসন ধোয়া হয়। শরবত বা আখের রসে ব্যবহৃত বরফও অনেক সময় অপরিষ্কার পানি থেকে তৈরি হয়, যা শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

এছাড়া একই তেল বারবার ব্যবহার করাও বড় সমস্যা। দীর্ঘ সময় ধরে একই তেল গরম করলে তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়, যা হৃদরোগ, লিভারের সমস্যা এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই ধরনের দূষিত খাবার খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া ও ফুড পয়জনিং সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। এর পাশাপাশি টাইফয়েড, জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের মতো গুরুতর রোগও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব সংক্রমণ শরীরের হজম ক্ষমতা, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস্তার খাবার খেতে হলে কিছুটা সতর্কতা জরুরি। তুলনামূলক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দোকান বেছে নেওয়া, খোলা খাবার এড়িয়ে চলা, নিরাপদ পানি ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি যেমন খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার রাখা এবং সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ