জানা গেছে, ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী নাগরিকরা অনুমোদিত ম্যাচমেকিং বা ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ২০ হাজার ইয়েন পর্যন্ত সহায়তা পাচ্ছেন। এই অর্থ দিয়ে জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপের বার্ষিক সদস্যপদের পুরো খরচই বহন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে তরুণদের অনলাইনে সঙ্গী খোঁজার প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করছে স্থানীয় প্রশাসন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাপানে অনলাইনে জীবনসঙ্গী খোঁজার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৯ বছরের কম বয়সী বিবাহিত দম্পতিদের প্রতি চারজনের একজন অনলাইনে পরিচয়ের মাধ্যমে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় এই মাধ্যম এখন বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে।
এদিকে জাপানের জনসংখ্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে জন্মের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেশি ছিল, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৬ লাখ ৮৬ হাজারে, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের মধ্যে একটি।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে শিশু যত্ন সুবিধা বৃদ্ধি, আবাসন সহায়তা এবং নিজস্ব ডেটিং প্ল্যাটফর্ম চালুর মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি কর্মজীবনে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগ নিয়ে জনমতে ভিন্নতা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধুমাত্র ডেটিং অ্যাপে ভর্তুকি দিয়ে জন্মহার বাড়ানো সম্ভব নয়। আর্থিক অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং সন্তান লালন-পালনের উচ্চ ব্যয় কমানোর মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে।





