Search
Close this search box.

বিমানে মরদেহ পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়া—ধাপে ধাপে যা হয়

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রবাসে বা দূর শহরে মৃত্যুর পর মরদেহ দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে বা গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো বিমান পরিবহন। এই প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে বলা হয় “রিপ্যাট্রিয়েশন অব মোর্টাল রিমেইনস”।

বিমানযোগে মরদেহ পরিবহন কোনো সাধারণ যাত্রা নয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং এয়ারলাইন্সের নির্দিষ্ট নিয়মকানুন।

প্রথম ধাপে প্রয়োজন হয় মৃত্যুসনদ, পুলিশের অনাপত্তিপত্র (NOC) এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি। অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ পরিবহনের অনুমতি মেলে না।

এরপর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এমবাম্বিং, যেখানে বিশেষ রাসায়নিক দিয়ে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয় যাতে দীর্ঘ যাত্রায় তা নিরাপদ থাকে। এর জন্য আলাদা এমবাম্বিং সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

পরবর্তী ধাপে মরদেহ রাখা হয় বিশেষভাবে তৈরি এয়ারটাইট কাফিনে, যা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সিল করা থাকে। কাফিন প্রস্তুত শেষে কফিন সিলিং সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।

এয়ারলাইন্স সাধারণত মরদেহকে যাত্রী নয়, কার্গো হিসেবে পরিবহন করে। নির্ধারিত কাগজপত্র যাচাই, কার্গো বিল তৈরি এবং নিরাপত্তা পরীক্ষার পর এটি ফ্লাইটে লোড করা হয়।

দেশের ভেতরে এই প্রক্রিয়ার খরচ তুলনামূলক কম হলেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তা কয়েকগুণ বেশি হতে পারে—যা দূরত্ব, দেশ ও এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভর করে।

সব মিলিয়ে এটি একটি সংবেদনশীল, নিয়ন্ত্রিত এবং মানবিক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি ধাপই নির্ধারিত নিয়ম মেনে সম্পন্ন করতে হয়।


সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ