Search
Close this search box.

আঁকেন ছবি, সংগ্রহে ৩০০ পুরোনো সামগ্রী—মিলন বিশ্বাসের ব্যতিক্রমী জীবন

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

শিল্প কখনো শুধু রং-তুলি নয়, কখনো তা হয়ে ওঠে ইতিহাস ও জীবনের প্রতিচ্ছবি—এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত খুলনার চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস।

একাধারে চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, কবি, গীতিকার ও জাদুশিল্পী হিসেবে পরিচিত মিলন বিশ্বাসের মূল পরিচয় এখন তার শিল্পচর্চা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের অনন্য উদ্যোগ। খুলনা আর্ট কলেজ থেকে চারুকলায় শিক্ষাগ্রহণ করা এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

তার শিল্পজীবন শুরু হয় শৈশব থেকেই। বই-খাতার পাতায় আঁকিবুঁকি করতে করতে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পী। পরবর্তীতে খুলনা আর্ট একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিল্পচর্চায় অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি।

তার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো মুখ দিয়ে ছবি আঁকার দক্ষতা, যা তিনি একটি চ্যালেঞ্জ থেকে শুরু করেছিলেন এবং পরে তা বিস্ময়কর পর্যায়ে নিয়ে যান।

শিল্পচর্চার পাশাপাশি মিলন বিশ্বাস গড়ে তুলেছেন একটি ব্যতিক্রমী সংগ্রহশালা, যেখানে সংরক্ষিত আছে ৩০০টিরও বেশি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে পুরোনো টেলিফোন, হারিকেন, হুক্কা, সাদা-কালো টেলিভিশন, ক্যামেরা, রেডিওসহ নানা ঐতিহাসিক বস্তু।

তিনি এসব সংগ্রহ করেছেন নিজের উদ্যোগে ভাঙারি দোকান থেকে এবং কিছু পেয়েছেন শুভানুধ্যায়ী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।

মিলন বিশ্বাস বলেন, পুরোনো এসব জিনিস আমাদের ইতিহাসের অংশ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি। তার স্বপ্ন, গ্রামের বাড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণশালা গড়ে তোলা, যেখানে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য আবারও জীবন্ত হয়ে উঠবে।

শুধু শিল্প নয়, সমাজের প্রতিও গভীর দায়বদ্ধতা থেকে তিনি অসহায় শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করেন।

সব মিলিয়ে মিলন বিশ্বাস প্রমাণ করেছেন—শিল্প শুধু ক্যানভাসে সীমাবদ্ধ নয়, তা হতে পারে একটি সময়, একটি সমাজ এবং একটি ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখার শক্তিশালী মাধ্যম।



সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ