তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর পুরান ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারত থেকে বিভিন্ন সময়ে কাঁচামরিচ, আপেলসহ কৃষিপণ্য আমদানি দেখানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন মনিটরিং সিস্টেমে এসব লেনদেন পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২৩ থেকে ২৮ টাকায় আমদানি দেখানো হয়েছে, যা বাস্তব বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। অথচ একই সময়ে দেশের খুচরা বাজারে কাঁচামরিচের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তিন বছরের মধ্যে এক কোটি ডলারের বেশি মূল্যের আমদানি দেখিয়েছে। এসব আমদানির বড় অংশই ভারত থেকে এসেছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে তদন্তে দেখা যায়, যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য আমদানি দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেরই মূল ব্যবসা ভিন্ন খাতে, যেমন পোশাক ও গহনা বিক্রি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় এত কম দামে পণ্য আমদানি দেখানো সন্দেহজনক। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য, গুণগত মান এবং শুল্কায়ন মূল্য যাচাই বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারের একটি চক্র হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কম দামে আমদানি দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাঠিয়ে দেশে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করার মাধ্যমে বড় ধরনের মুনাফা ও অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে আমদানিকারক পক্ষ দাবি করেছে, পণ্যগুলো নিম্নমানের এবং কিছু অংশ নষ্ট ছিল বলেই কম দামে আমদানি সম্ভব হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে বলা হয়েছে, বাজারমূল্যের সঙ্গে এত বড় ব্যবধান কোনোভাবেই স্বাভাবিক ব্যবসায়িক ব্যাখ্যায় গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে এবং পুরো আমদানি প্রক্রিয়া এখন তদন্তাধীন রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু বাজারকে অস্থির করে না, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।







