রাজধানীর বিভিন্ন আড়ত ও খুচরা বাজারে বর্তমানে ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১২ থেকে ১৩ টাকায়, যেখানে ডজনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল প্রায় ১২০ টাকার মধ্যে। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় এবং হাঁসের ডিম হালি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে বাজার ঘুরে দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তীব্র গরমের কারণে ডিম উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। খামার পর্যায়ে মুরগি স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাদ্য গ্রহণ করছে, ফলে ডিম উৎপাদনও কমে গেছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ডিম নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব কারণে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
উৎপাদকদের দাবি, চলমান তাপপ্রবাহে শুধু উৎপাদন কমছে না, বরং খামার পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতিও হচ্ছে। গরম সহ্য করতে না পেরে অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, খাদ্য আমদানির খরচ বৃদ্ধি এবং কিছু এলাকায় বার্ড ফ্লুর প্রভাবও উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও চাপের মধ্যে ফেলেছে।
ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতারা বলছেন, ডিমের বাজার মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান তীব্র গরমে উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাজারে দাম বেড়েছে। তাদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও ওঠানামা করতে পারে।
ভোক্তারা বলছেন, ডিম ছিল সাধারণ মানুষের সবচেয়ে সস্তা প্রোটিনের উৎস। কিন্তু সাম্প্রতিক দামের ঊর্ধ্বগতিতে তা এখন অনেকের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে এ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, প্রাকৃতিক কারণ যেমন তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের অভাব মিলিয়ে ডিমের দামে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।







