স্থানীয় সময় শনিবার ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পসহ উপস্থিত অতিথিদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেক অতিথি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন, কেউ আবার মেঝেতে শুয়ে পড়েন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আমি এসব নিয়ে বেশি ভাবি না। আমি স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করার চেষ্টা করি এবং দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন, কিন্তু তিনি সে ধরনের নন। তার ভাষায়, “আমি বিষয়গুলো যেমন আছে তেমনভাবেই গ্রহণ করি এবং পরিস্থিতি যতটা সম্ভব ভালোভাবে সামাল দিই।”
ট্রাম্প তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের কথাও উল্লেখ করে বলেন, তিনিও বারবার এই দায়িত্বের ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেন। তবে এই ঝুঁকি শুধু প্রেসিডেন্টের জন্য নয়, তার পরিবারের জন্যও প্রযোজ্য।
ঘটনার সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রথমে তিনি গুলির শব্দকে অন্য কিছু মনে করেছিলেন, কিন্তু দ্রুত পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “অনেক সাহসী মানুষ অসাধারণ কাজ করেছেন। আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত।”
তিনি জানান, ঘটনার আগে কোনো ধরনের হামলা বা হুমকির তথ্য তাদের কাছে ছিল না। সম্ভাব্য হামলাকারী সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “এ ধরনের মানুষকে কখনোই পুরোপুরি বোঝা যায় না। তবে সে আমার থেকে অনেক দূরে ছিল।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও আশ্বস্ত করে ট্রাম্প বলেন, সিক্রেট সার্ভিসের অনেক সদস্য সাধারণ অতিথির ছদ্মবেশে উপস্থিত ছিলেন, যা পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার পরও ট্রাম্পের দৃঢ় অবস্থান রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তিনি ঝুঁকির মধ্যেও দায়িত্ব পালনে অটল থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।








