মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে তেহরান এই শর্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। ইরানের দৃষ্টিতে, আলোচনায় ইতিবাচক ফল পেতে হলে প্রথমেই বক্তব্যের সুর নরম করতে হবে এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের ধরণ পরিবর্তন হলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার পক্ষে ঐকমত্য গড়ে তোলা সহজ হবে। বিশেষ করে কঠোর অবস্থানে থাকা গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পেতে এই পরিবেশ জরুরি বলে মনে করছে তেহরান।
আগামী ২৭ এপ্রিল ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর বাতিল হওয়ায় আলোচনা প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। নির্ধারিত এই সফরে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে সফর বাতিল হওয়ায় সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও হাতছাড়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির পাকিস্তান সফর মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি ঘিরেই সীমাবদ্ধ ছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মতবিনিময়ের অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থান কৌশলগত—একদিকে তারা আলোচনার পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, উভয় পক্ষ কিছুটা নমনীয়তা দেখালে ভবিষ্যতে নতুন করে সংলাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিবেচনায় এই সম্ভাব্য সংলাপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। এখন নজর—যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান কতটা পরিবর্তন করে এবং ইরান কবে আলোচনায় বসার জন্য ইতিবাচক সংকেত দেয়।








