শুভশ্রী উচ্চতায় দীর্ঘ হওয়ায় তাঁর বিপরীতে ছোটখাটো চেহারার রাহুলকে মানাবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন পরিচালক। একজন মেকানিক (রাহুল) ও স্টুডেন্ট (নায়িকা) হিসেবে তাঁদের রসায়ন কতটা জমবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন রাজ।
রাজ যখন রাহুলের কাছে কোনো বিকল্প জানতে চান, তখন রাহুল তাঁর সিরিয়ালের সহকর্মী প্রিয়াংকা সরকারকে অডিশন দেওয়ার পরামর্শ দেন। প্রিয়াংকা অডিশন দিলে তাঁর সাদাসিধে লুক সবার পছন্দ হয়ে যায়।
সেই সময় প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ (SVF)-এর দুই কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতা ও মহেন্দ্র সোনি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেন:
তাঁকে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে সরিয়ে ‘বাজিমাত’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় লঞ্চ করা হয়। ‘বাজিমাত’-এর পরিবর্তে তাঁকে নিয়ে আসা হয় ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমায়। মজার ব্যাপার হলো, রাহুল তখনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যে শুভশ্রীকে তাঁর বিপরীতে মানায়নি, কালক্রমে সেই শুভশ্রীই পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর জীবনসঙ্গিনী হয়েছেন।
সিনেমাটি সুপারহিট হওয়ার পর রাহুল-প্রিয়াংকার প্রেম ও বিয়ে হয়। তাঁদের একমাত্র সন্তান সহজের জন্মের পর সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁরা আবারও এক হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পাড় করেগা…’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন সমুদ্রের পানিতে ডুবে প্রয়াত হন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাহুলের অকাল প্রয়াণে প্রযোজনা সংস্থার গাফিলতির অভিযোগ তুলে প্রিয়াংকা সরকার আর্টিস্ট ফোরামকে সঙ্গে নিয়ে এফআইআর দায়ের করেছেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।








