অধিগ্রহণের টাকা তিনগুণ বাড়িয়ে নিতে এই চক্রটি জমির শ্রেণি পরিবর্তনে ব্যাপক কারচুপি করেছে:
কম দামের ‘নালা’ বা ফসলি জমিকে রাতারাতি ‘বাণিজ্যিক ভিটি’ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের পর রাস্তার পাশে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের বাণিজ্যিক ভবন ও বাড়ি নির্মাণ করে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।নথিপত্রে দেখা গেছে, মসজিদের দানকৃত জমিও জনৈক ব্যক্তির নামে দেখিয়ে ক্ষতিপূরণের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এই দুর্নীতির পাহাড় যখন আকাশচুম্বী, তখন বাধা হয়ে দাঁড়ান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগম। যোগদানের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তিনি এই সিন্ডিকেটের ভিত কাঁপিয়ে দেন:
তিনি বাস্তব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে তালিকাভুক্ত করা শত শত স্থাপনা ও অবৈধ অধিগ্রহণ বাতিল করেন।তাঁর এই একক প্রচেষ্টায় সরকারের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাট হওয়া থেকে সাশ্রয় হতে চলেছে।
সরকারি স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে মাহমুদা বেগম প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আক্রোশের শিকার হন। গত ২৭ এপ্রিল তাঁকে পরিকল্পনা কমিশনে বদলি করে দেওয়া হয়েছে।
এডিসি মাহমুদা বেগম জানান, “একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির অবৈধ তদবির রক্ষা করতে না পারায় রীতিমতো ‘ঘোষণা’ দিয়ে আমাকে বদলি করা হয়েছে।”
অধিগ্রহণের চেক থেকে কমিশন ভাগাভাগির বিষয়টি আর গোপন নেই। দালাল ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ৪০-৬০ শতাংশ কমিশন ভাগের চুক্তি হতো ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে, যা জেলা প্রশাসনের নথিপত্রেও সংযুক্ত পাওয়া গেছে। সাবেক ডিসি ড. বদিউল আলমের সময়ে জারী করা নোটিশেও ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির’ মাধ্যমে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা মূলত দালালদের বৈধতা দেওয়ার কৌশল ছিল বলে অভিযোগ।
২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী চারজন জেলা প্রশাসক ও বেশ কয়েকজন এডিসির আমলে এই লুটতরাজ চরম সীমায় পৌঁছেছে:
সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান, ড. বদিউল আলম এবং মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী। জেলা প্রশাসনের ছয়জন অ-ক্যাডার কর্মচারী (নাজির, রেকর্ডকিপার প্রমুখ) মূলত এই ঘুস সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ।
এর আগে গঠিত তদন্ত কমিটি রাঘববোয়ালদের বাঁচিয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের বলির পাঁঠা বানিয়েছে। অভিযোগ আছে, তদন্ত কমিটিকে ম্যানেজ করতে এক কোটি টাকা ঘুস দেওয়া হয়েছিল।







