Search
Close this search box.

‘এক গর্বিত বিপ্লবীর মা’: রাকসু জিএস আম্মারের মায়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস ভাইরাল

অহনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মা রোকেয়া খানমের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) রাত ১০টার দিকে দেওয়া এই স্ট্যাটাসে তিনি দীর্ঘ বছরের পারিবারিক নির্যাতন, ভয় এবং ছেলের বিপ্লবী হয়ে ওঠার নেপথ্য গল্পগুলো তুলে ধরেছেন।

নিজেকে ‘এক গর্বিত বিপ্লবীর মা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁর দেওয়া সেই স্ট্যাটাসের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

রোকেয়া খানম জানান, ১৫ জুলাই পর্যন্ত তিনি ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন। কিন্তু ১৬ জুলাই যখন আবু সাঈদ শহীদ হলেন, তখন তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে যান। তিনি লেখেন, “সেদিনই আমি আমার একমাত্র ছেলেকে দেশের মানুষের জন্য দিয়ে দিয়েছি। এখন আর তাকে থামতে বলি না।”

আওয়ামী লীগ আমলে তাঁদের পরিবারের ওপর যে ভয়াবহ নির্যাতন চলেছিল, তার স্মৃতিচারণ করেন তিনি:

বিএনপি করার কারণে তাঁর আপন ভাইকে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছিল। জামায়াত সমর্থনের অভিযোগে তাঁর স্বামীকে কোমরে দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যে শারীরিক নির্যাতনের ট্রমা থেকে তিনি আর পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।

এই ভয়ের পরিবেশ থেকেই ২০১৮ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে সালাহউদ্দিনকে তিনি দূরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

সালাহউদ্দিন আম্মার কেন এত আবেগহীন বা কঠোর—সেই প্রশ্নের উত্তরে মা জানান, ফ্যাসিস্ট শাসনের কবলে আম্মারের কৈশোর হারিয়ে গেছে।

১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত আম্মারের মা-বাবাকে ডিবি ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা ঘরবন্দী করে রেখেছিল। আম্মারের বাবার ওষুধ পর্যন্ত আনতে দেওয়া হয়নি। সালাহউদ্দিনকে ফিরিয়ে না আনলে তাঁর বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

 সেই চরম মুহূর্তেও তিনি ছেলেকে আন্দোলন থেকে ফিরে আসতে বলেননি।

পারিবারিক সম্পর্কের তিক্ততা তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর যে ভাইকে একসময় পুলিশ পিটিয়েছিল, সেই আপন মামাই এখন সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে মিছিলে নেতৃত্ব দেন। রোকেয়া খানমের ভাষ্য অনুযায়ী, “সালাহউদ্দিন ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবেই, আর তখন রক্তের সম্পর্কের মানুষও তাঁর বিরুদ্ধে চলে যাবে—এটিই বাস্তবতা।”

নিরাপত্তা নিয়ে অনেকে তাঁকে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “নিরাপত্তার জন্য নয়, ইতিহাসের সাক্ষী থাকার জন্য প্রয়োজনে জিডি করব। যেন ভবিষ্যতে বিপ্লবী সন্তানদের মা-বাবারা এই জিডির কপি দেখে সাহস পান।”

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ