Search
Close this search box.

গরমের অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যা: সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞের ৫টি পরামর্শ

অহনা

গ্রীষ্মকাল শুধু তীব্র দাবদাহই নিয়ে আসে না, এটি নিঃশব্দে আমাদের হজম প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করে। এই সময়ে হঠাৎ অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা খুবই সাধারণ। ভারতের ন্যাচারোপ্যাথি ও যোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নরেন্দ্র কে শেঠি-র মতে, গরমের সময় ডিহাইড্রেশন এবং অতিরিক্ত তাপের কারণে আমাদের পরিপাকতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

গরম আবহাওয়ায় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হজমের গতি ধীর হয়ে যায়।

শরীরে পানির অভাব হলে পাকস্থলীর পাচক রস ঘন হয়ে যায়, ফলে খাবার ভাঙতে সমস্যা হয়। উষ্ণ পরিবেশে খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।

অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে জরুরি লবণ বেরিয়ে যায়, যা বমি ভাব ও ক্লান্তি তৈরি করে।

অ্যাসিডিটি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডকে পাতলা করতে সাহায্য করে। পানির পাশাপাশি ডা. শেঠি কিছু বিশেষ পানীয়ের পরামর্শ দিয়েছেন:

  • ডাবের পানি: এটি শরীরের প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।

  • বাটারমিল্ক বা লাচ্ছি: এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে।

  • গন্ড কাতিরা: এই প্রাকৃতিক উপাদানটি পানিতে ভিজিয়ে খেলে জেলির মতো হয়, যা শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং হজমতন্ত্রকে প্রশান্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর।

গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখে এমন সহজপাচ্য খাবার নির্বাচন করা জরুরি:

  • উপকারী খাবার: শসা, তরমুজ, বাঙ্গি, চালকুমড়া, পুদিনা পাতা এবং মুগ ডাল-ভাতের মতো হালকা খাবার।

  • বর্জনীয় খাবার: অতিরিক্ত ঝাল, ভাজাপোড়া এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (চা-কফি) পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, নিয়ম মেনে খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ:

  • সময়মতো আহার: দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা অনিয়মিত খাবার গ্রহণ অ্যাসিডিটির প্রধান কারণ।

  • বজ্রাসন: হজমশক্তি বাড়াতে খাবারের পর ১০-১৫ মিনিট বজ্রাসনে বসার অভ্যাস করুন। এটি পাকস্থলীতে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দ্রুত হজমে সাহায্য করে।

  • মানসিক প্রশান্তি: পেট ও মস্তিষ্কের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তাই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা হজমে বিঘ্ন ঘটায়।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ