Search
Close this search box.

মিনি-স্ট্রোক বা টিআইএ: বড় বিপদের আগাম সংকেত ‘ওয়ার্নিং স্ট্রোক’

অহনা

হঠাৎ করে শরীরের একপাশ দুর্বল লাগা বা কথা জড়িয়ে যাওয়াকে আমরা অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করি। কিন্তু চিকিৎসকরা একে বলছেন ‘ওয়ার্নিং স্ট্রোক’ বা ‘মিনি-স্ট্রোক’। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA)। এটি মূলত মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার ফলে হয়। লক্ষণগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে গেলেও এটি হতে পারে প্রাণঘাতী বড় কোনো স্ট্রোকের পূর্বাভাস।

যখন মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তখনই টিআইএ বা মিনি-স্ট্রোক ঘটে। ব্রিটিশ চিকিৎসকদের মতে, এটি আসলে ‘মস্তিষ্কের হার্ট অ্যাটাক’। যদি উপসর্গগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায়, তবেই তাকে টিআইএ বলা হয়। এর চেয়ে বেশি সময় স্থায়ী হলে তা স্থায়ী স্ট্রোকে রূপ নিতে পারে এবং মস্তিষ্কের কোষের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো সহজে মনে রাখার জন্য বিশেষজ্ঞরা ‘BE FAST’ ফর্মুলা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলেই সতর্ক হতে হবে:

  • B (Balance): হঠাৎ শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া।

  • E (Eyes): হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা এক চোখে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা।

  • F (Face): হাসতে গেলে বা কথা বলতে গেলে মুখের একপাশ ঝুলে যাওয়া।

  • A (Arms): দুই হাত উপরে তুলতে গেলে এক হাত পড়ে যাওয়া বা হাতে অবশ ভাব।

  • S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট কথা বলা বা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।

  • T (Time): লক্ষণ দেখামাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করা।

প্রধান লক্ষণগুলোর বাইরেও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে:

  • তীব্র মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা।

  • বমি বমি ভাব বা খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া।

  • হঠাৎ করে মানসিক বিভ্রান্তি বা স্মৃতিভ্রম।

কারা বেশি ঝুঁকিতে? সাধারণত ৫০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেশি থাকলেও আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে তরুণরাও নিরাপদ নন। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদপিণ্ডে জন্মগত ত্রুটি স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার মতে, মিনি-স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে যায় বলে অনেকেই একে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী সমস্যাটিই আসলে শরীরকে জানান দিচ্ছে যে বড় কোনো বিপদ আসছে। তাই লক্ষণ সেরে গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা (যেমন: MRI বা CT Scan) করানো জরুরি।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ