খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা চালের কেজি এখন ৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৫ টাকা। সরু চাল কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৮৫ টাকা পর্যন্ত। ডালের দামও বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। সরু মসুর ডাল কেজিতে ১৫০ টাকা, মাঝারি মানের ১২০ এবং মোটা দানার ডাল ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল অনেক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না, আর যেখানে মিলছে সেখানে লিটারপ্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বেশিরভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পটোল, ঢ্যাঁড়শ, বরবটি, ঝিঙা, শিমসহ নানা সবজি ১০০ টাকার আশপাশে। কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা, শসা ৬০-৮০ এবং টমেটো ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ-মাংসের বাজারেও একই চিত্র। গরুর মাংস কেজিতে ৮০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৮০-৪০০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামও বেশ চড়া। রুই মাছ ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা, কই ১৪০ টাকা এবং পাবদা ৩০০ থেকে ৪১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আরও বেশি—চাষের চিংড়ি ৭৫০-৮০০ টাকা এবং নদীর চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।
এই পরিস্থিতিতে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষ নয়, মধ্যবিত্ত পরিবারও নীরবে চাপে পড়েছে। সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে কমাতে হচ্ছে খাবারের তালিকা, বদলাতে হচ্ছে জীবনযাত্রার ধরন। অনেক পরিবারেই এখন সপ্তাহের বাজারের পরিবর্তে দৈনিক প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে চলতে হচ্ছে।
রাজধানীর এক ভ্যানচালক এনায়াতউল্লাহ জানান, বাজারে এসে কী কিনবেন আর কী বাদ দেবেন তা ঠিক করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, যে টাকা আছে তা দিয়ে চাল-ডাল কিনতেই শেষ হয়ে যায়, অন্য কিছু কেনা প্রায় অসম্ভব। একইভাবে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সহিদুল আলম বলেন, মাস শেষে বেতন পেলেও তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করাও এখন বড় চাপের বিষয়।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে কার্যকর তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবুও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে ফিরে আসুক।








