গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশে থেকে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে লাশ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। ওই রাতেই স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আজ সোমবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। স্ত্রী উর্মী হীরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। এক বছরের শিশু অব্বয় বাবার কবরের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে বসে আছে। অন্যদিকে বাবা-মা হারিয়ে পাগলপ্রায় অবস্থায় আছেন বুলেট বৈরাগীর স্বজনরা।
নিহতের শাশুড়ি মমতা হীরা বলেন, “চার দিন আগে বিবাহবার্ষিকী গেছে, আজ নাতির জন্মদিন। কিন্তু এই দিনগুলো এখন শোকের স্মৃতি হয়ে গেল। আমার মেয়েকে অকালে বিধবা করা হলো।”
নিহতের স্ত্রী উর্মী হীরা বলেন, “আমার স্বামীকে শেষবার ফোনে কথা বলেছিলাম, বলেছিল সে রওনা দিচ্ছে। কিন্তু আর ফিরে এলো না। আমার সন্তান আজ বাবাহীন জন্মদিন কাটাচ্ছে।”
পরিবারের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বুলেট বৈরাগী টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে দায়িত্ব পালন করছিলেন।






