পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে মোট ৩০ হাজার ৬০৭ জনকে সন্দেহজনকভাবে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৬০ জনে।
এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭ হাজার ৮১ জন। তবে এখনো বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত দেড় মাসে হামে মোট ২৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০৯ জন সন্দেহজনক হামে এবং ৪২ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত টিকাদান জোরদার, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানালেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।








