Search
Close this search box.

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে ‘ফুয়েল লোডিং’-এর লাইসেন্স প্রদান

অহনা

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে প্রথম ইউনিটে ‘ফুয়েল লোডিং’ বা পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনের জন্য সম্প্রতি ‘কমিশনিং লাইসেন্স’ প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই মেগা প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম ইউনিটের ফুয়েল লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে চুল্লিতে ইউরেনিয়াম স্থাপন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এই জটিল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে।

জ্বালানি স্থাপনের পর নিরাপত্তা পরীক্ষা ও ‘পাইলট অপারেশন’ চালানো হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে ৬ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। তবে আশার কথা হলো:

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চালন লাইনের কাজ গত মে মাসেই শেষ হয়েছে।

রূপপুর-বাঘাবাড়ি, রূপপুর-বগুড়া এবং রূপপুর-গোপালগঞ্জ লাইনের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পৌঁছানো হবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

২০১৭ সালে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এটি ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ প্রক্রিয়ায় কাজ করবে, যা ইউরেনিয়ামের বিভাজন থেকে প্রাপ্ত তাপশক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ