Search
Close this search box.

‘শিবির কি হত্যাযোগ্য প্রাণ?’: মানবাধিকার ও প্রকাশ্য রাজনীতি নিয়ে ডাকসু নেতা সর্ব মিত্রের স্ট্যাটাস

অহনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা ছাত্র শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ এবং তাদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) রাতে দেওয়া এই পোস্টে তিনি শিবিরের প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসা এবং তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

ডাকসুর এই নেতার ফেসবুক পোস্টের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

সর্ব মিত্র চাকমা প্রশ্ন তুলেছেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিবিরের গোপন রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু। তাঁর মতে:

যেহেতু আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় নেই, তাই শিবিরের উচিত ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ছেড়ে সম্পূর্ণ প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসা। এটি তাঁর ব্যক্তিগত চাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শিবির কেন প্রকাশ্যে আসছে না, তার নেপথ্যে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মনস্তত্ত্বকে দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে:

গত ১৭ বছরে সমাজ ও রাষ্ট্রে এটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে, শিবিরের কর্মী মানেই ‘নিঃশর্তভাবে হত্যাযোগ্য প্রাণ’। যদিও সংগঠনটির ওপর রাষ্ট্রীয় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবুও তাদের মেরে ফেলাকে ‘জায়েজ’ মনে করা হয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একপাল কুকুরছানা বিষপানে মারা গেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকের ঝড় ওঠে, কিন্তু একজন জলজ্যান্ত মানুষ ‘শিবিরের ছানা’ হিসেবে মারা গেলে মানবাধিকারকর্মী বা সিভিল সোসাইটি টু শব্দটিও করে না।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি লেখেন:

 ওই নেতা প্রকাশ্যে শিবিরকে হত্যার হুমকি দিলেও কোনো নিন্দার ঝড় ওঠেনি। সর্ব মিত্রের মতে, অন্য কোনো সংগঠনকে নিয়ে এমন মন্তব্য করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।

তিনি মনে করেন, শিবির নিজেও হয়তো মেনে নিয়েছে যে তাদের জন্য মানবাধিকার প্রযোজ্য নয়, তাই তারা এসবের প্রতিবাদও করে না।

সর্ব মিত্র চাকমা তাঁর পোস্টের শেষে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন:

“শিবির প্রকাশ্যে আসুক, আমি খুব করে চাই। তার আগে সমাজ তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করুক। তাদের ‘হত্যাযোগ্য প্রাণ’ থেকে মুক্তি দিক।”

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ