শুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১৪ হাজার ৬৬৪ জন বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে চীনের নাগরিক ৩ হাজার ৯৯১ জন (২৭.২২ শতাংশ), রাশিয়ার ৩ হাজার ৩৩৩ জন (২২.৭৩ শতাংশ) এবং ভারতের ১ হাজার ৯০৮ জন (১৩.১ শতাংশ)। এছাড়া কাজাখস্তান থেকে ১ হাজার ২৮৮ জন, শ্রীলঙ্কা থেকে ৬৫১ জন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৫২৮ জন, পাকিস্তান থেকে ৩৯৮ জন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫৯ জন কর্মী রয়েছে। জাপান থেকে ২৮৩, মালয়েশিয়া থেকে ১৮৫, থাইল্যান্ড থেকে ১৫২ এবং ফিলিপাইন থেকে ৮৬ জন কর্মী বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত। অন্যান্য দেশ থেকে আরও ১ হাজার ৫০২ জন বা ১০.২৪ শতাংশ বিদেশি কর্মী দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটে কাজ করছেন।
কাজের ক্ষেত্রভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিদেশি কর্মীদের মধ্যে ২৩.৩৬ শতাংশ প্রশাসন ও হিসাব শাখায়, ২২.৭০ শতাংশ কারিগরি ও প্রকৌশল শাখায়, ১৫.৩৬ শতাংশ উৎপাদন খাতে এবং ১২.৫৩ শতাংশ বিপণন ও বিক্রয় শাখায় কর্মরত। অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতেই বিদেশিদের আধিপত্য বেশি।
বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১ হাজার ৭৬৮টি অর্থনৈতিক ইউনিটে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪৩টি প্রতিষ্ঠান ৫০ লাখ টাকার মধ্যে, ২১২টি প্রতিষ্ঠান ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে, ৩৬২টি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকার মধ্যে, ১৩৩টি প্রতিষ্ঠান ৫ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে এবং ৫১৮টি প্রতিষ্ঠান ১০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগের ৭০.৭৫ শতাংশ শহর এলাকায়, বাকি ২৯.২৫ শতাংশ পল্লি অঞ্চলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চিত্র শুধু বিদেশি উপস্থিতির নয়, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দক্ষ জনবলের ঘাটতির প্রতিফলন। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও জটিল ব্যবস্থাপনায় বিদেশি নির্ভরতা বাড়ছে। স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ জোরদার না হলে ভবিষ্যতে বিদেশি নির্ভরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।








