ম্যাচটি ইতালির জন্য আশাব্যঞ্জকভাবেই শুরু হয়েছিল:
ম্যাচের মাত্র ১৫ মিনিটে তরুণ ফরোয়ার্ড ময়েস কিন দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ইতালিকে লিড এনে দেন।
ম্যাচের মাঝপথে ইতালির একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দল ১০ জনে পরিণত হয়। এই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় পার করে ইতালি, কিন্তু টাইব্রেকারে গিয়ে আর ভাগ্য সহায় হয়নি।
পেনাল্টি শ্যুটআউটে বসনিয়ার গোলরক্ষকের বীরত্বে ৪–১ ব্যবধানে পরাজিত হয় আজ্জুরিরা।
ম্যাচ শেষে ইতালির কোচ ও সাবেক কিংবদন্তি জেন্নারো গাত্তুসো তাঁর তীব্র হতাশা ও কষ্ট প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:
“আমি যেন একপ্রকার অনুভূতিশূন্য হয়ে গেছি—কষ্ট পেলেও তা ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারছি না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দলের জন্য এক বিশাল ধাক্কা।”
গাত্তুসো আরও যোগ করেন:
খেলোয়াড়রা হৃদয় দিয়ে লড়েছে এবং তাদের পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত। তবে ফলাফল মেনে নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন।
রেফারিং নিয়ে কোনো অজুহাত দিতে চাননি তিনি। তবে মনে করেন, কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করায় এই হার তাদের প্রাপ্য ছিল না।
বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে না পারার ব্যর্থতার দায় তিনি নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু না বললেও হারের যন্ত্রণাই এখন তাঁর কাছে মুখ্য।
সর্বশেষ ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর ইতালির ফুটবলে যে অধঃপতন শুরু হয়েছে, তা এই হারের মাধ্যমে আবারও প্রকট হলো: ১. টানা তিন আসর নেই: ২০১০ ও ২০১৪ আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর ২০১৮, ২০২২ এবং এখন ২০২৬—টানা তিনটি বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে ইতালিকে। ২. কাঠামোগত প্রশ্ন: এক সময়ের রক্ষণভাগ ও কৌশলে সেরা দলটি কেন বারবার প্লে-অফে ব্যর্থ হচ্ছে, তা নিয়ে ইতালির ফুটবল কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জন্য এটি ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত হলেও, বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞে ইতালির মতো নান্দনিক দলের অনুপস্থিতি সমর্থকদের জন্য এক বড় অপূর্ণতা হয়েই থাকবে।








