বৈশ্বিক অস্থিরতা, চড়া মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি—এই ত্রিমুখী সংকটের মাঝেই প্রণীত হতে যাচ্ছে বর্তমান সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে এটি এক প্রকার ‘চাপের বাজেট’ হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) রাজধানীর সিপিডি মিলনায়তনে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় তাঁর বক্তব্যে বর্তমান অর্থনীতির চারটি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন: ১. রাজস্ব ঘাটতি: লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এটি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ২. জ্বালানি সংকট: বৈশ্বিক কারণে জ্বালানি খাতে চাপ বেড়েছে, যা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। ৩. ঋণের বোঝা: পূর্ববর্তী ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ এবং বর্তমান সংকটকালে নতুন করে ঋণ নিয়ে অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ৪. মূল্যস্ফীতি: আগে থেকেই চড়া থাকা মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, যা বাজেটের সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
নতুন সরকারের প্রথম বাজেটটি কেবল সংখ্যার খেলা না হয়ে বরং সংস্কারমুখী হওয়া উচিত বলে মত দেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন:
বাজেট প্রণয়নের সময় সব ধরণের অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত হয়, যা এড়ানো জরুরি।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে প্রভাব ফেলছে, তা মোকাবিলায় বিশেষ বরাদ্দ বা কৌশলী পদক্ষেপের প্রয়োজন।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের জন্য এই বাজেটটি হবে একটি বড় পরীক্ষা। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি বাজেটটি কেবল প্রথাগত হয় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার না আনা হয়, তবে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। (সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন)







