মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে তারেক রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রোজার ছুটি, বিভিন্ন আন্দোলন এবং অন্যান্য কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন ক্লাস চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কিছু ক্লাস ভার্চুয়ালি নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, একটি জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর শিক্ষা চালু করা হলে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভারসাম্যপূর্ণ একটি পদ্ধতি চালুর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে কাজ এগোচ্ছে এবং আগামী বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় প্রাথমিকভাবে স্কুল পর্যায়ে এ পদ্ধতি চালুর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কলেজ পর্যায়েও এটি প্রযোজ্য করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আপাতত ভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাপনা বজায় থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, মহানগরীগুলোতে ট্রাফিক জট, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিবহন খাতের সমন্বয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু, বৈদ্যুতিক বাস ব্যবহার, মেট্রোরেল সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সৌরশক্তিচালিত পরিবহন ব্যবস্থার মতো বিকল্প উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সঠিক নীতিমালা নিশ্চিত করা গেলে এই ‘ব্লেন্ডেড’ শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।







