চিঠিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে:
গত ১১ বছরে নিয়ম অনুযায়ী দুটি পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বিশেষ করে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
পদোন্নতি বঞ্চনা এবং ‘ব্লক পোস্ট’ সমস্যার কারণে প্রশাসনের তৃণমূল ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের গতিশীলতা ও মনোবল বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি তাদের চিঠিতে যে ১০টি দাবি পেশ করেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. অবিলম্বে ৯ম পে স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা। ২. সার্ভিস বেনিফিটসহ টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনরায় চালু করা। ৩. ব্লক পোস্ট সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে পদোন্নতির পথ সুগম করা। ৪. কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের জন্য উন্নত স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৫. কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ। ৬. স্বচ্ছ বদলি ও পদায়ন নীতি প্রণয়ন করে অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতির বাধা দূর করা। ৭. সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ও কার্যকর সমন্বিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু। ৮. দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভাতা প্রদান। ৯. আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি। ১০. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সংস্কার।
সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতেই এই সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সংগঠনটি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিললে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বিস্তারিত তথ্য ও উপাত্তসহ তাঁদের দাবিগুলো পেশ করবেন। সরকারি এই বিশাল জনগোষ্ঠী এখন তাকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে।








