Search
Close this search box.

এভিয়েশনে মন্দার মেঘ: জেট ফুয়েলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দিশেহারা এয়ারলাইন্স

অহনা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে মাসখানেক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ, অন্যদিকে দেশে জেট ফুয়েলের (উড়োজাহাজের জ্বালানি) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে এক চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো। ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আসা এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটেই টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক লাফে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পরদিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

 প্রতি লিটার ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা (বৃদ্ধি ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা)।প্রতি লিটার ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে। জ্বালানির দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভ্যাট-ট্যাক্সও বেড়েছে। আগে প্রতি লিটারে ১৭ টাকা ট্যাক্স থাকলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়।

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)-এর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এই বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। যেখানে ভারত ও নেপাল দাম অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে বাংলাদেশে এই বিশাল উল্লম্ফন এভিয়েশন ব্যবসাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।

জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো (ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা) তাদের ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছে:

 ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে একমুখী ভাড়া বেড়েছে অন্তত ১২০০ টাকা। যশোর ও রাজশাহীতে বেড়েছে ১০০০ টাকা

 বিভিন্ন গন্তব্যে টিকিটের দাম বেড়েছে অন্তত ২৫ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই ৭৯৭টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

 ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও জর্ডানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো এখন স্থবির।

 ফ্লাইট ওঠানামা কমে যাওয়ায় সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (বেবিচক) পার্কিং ফি, নেভিগেশন চার্জ ও নিরাপত্তা ফি থেকে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকার ফ্লাইটগুলো সংঘাতপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে গিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে, যা জ্বালানি খরচ ও যাত্রীদের সময়—উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানান, একটি এয়ারলাইন্সের পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৫০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানিতে। এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভাড়ায় এই লাগামহীন বৃদ্ধির ফলে যাত্রীরা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হবেন, যা পর্যটন ও কার্গো পরিবহনের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ