মাহবুবা রহমানের সুরের যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশভাগের সময় থেকে:
১৯৪৭ সালে তৎকালীন ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’-র ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রথম তাঁর গান প্রচারিত হয়। ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে তাঁর গাওয়া ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন।
জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সুরে ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ কিংবা ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’—এমন সব গান তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
পঞ্চাশ থেকে সত্তর দশকের অসংখ্য ব্যবসাসফল ও শৈল্পিক চলচ্চিত্রে তিনি প্লেব্যাক করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
জাগো হুয়া সাভেরা, আসিয়া, এ দেশ তোমার আমার, যে নদী মরুপথে, সূর্যস্নান, সোনার কাজল, নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং সাত ভাই চম্পা।
-
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে। বিশেষ করে পল্লিগীতি ও আধুনিক গানে তাঁর দখল ছিল ঈর্ষণীয়।
মাহবুবা রহমানের ব্যক্তিগত জীবন ছিল উত্থান-পতনে ঘেরা:
-
১৯৫০ সালে তিনি আবুল হাসনাতের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও সেই সংসার টেকেনি।
-
পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সংগীতজ্ঞ খান আতাউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এই দম্পতির ঘরে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা ইসলাম।
কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রয়াণে সংগীতাঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে জানা গেছে।








