রুমিন ফারহানা জানান, এই জয়টি তিনি স্রষ্টার কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন:
“আমি আল্লাহর কাছে বলেছি—আল্লাহ আমাকে লজ্জিত করবেন না। আমি চাইলে সংরক্ষিত কোটায় বা সমঝোতার মাধ্যমে সংসদে যেতে পারতাম, কিন্তু আমি মর্যাদার লড়াই বেছে নিয়েছি।”
নির্বাচনের দিন ফলাফল আসা পর্যন্ত তিনি অনবরত দোয়া ও দরুদ পাঠ করেছেন বলে জানান।
১৭ বছর দলে নিবেদিত থাকার পরও কেন মনোনয়ন পাননি এবং কেন বহিষ্কৃত হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন বিস্ময়কর এক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি বিএনপির কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ যে দলটি আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। মনোনয়ন না দেওয়ার ফলেই আমি সাধারণ মানুষের দোয়ার অংশ হতে পেরেছি।”
রুমিন মনে করেন, তাঁর প্রতি হওয়া ‘অন্যায়’ বা বহিষ্কারের বিষয়টি সাধারণ মানুষের মনে নাড়া দিয়েছিল। শপিং মলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নারীরা তাঁর জন্য দোয়া করেছেন।
তিনি জানান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন বিকেলে তিনি সংবাদপত্র মারফত নিজের বহিষ্কারের খবর পান। শোকের সেই মুহূর্তে এমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তাঁকে অবাক করেছিল।
বর্তমান সংসদ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন:
তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের মতো বড় দল এবং বাম দলগুলো নির্বাচনে না আসায় দেশের একটি বড় অংশ (প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ) এই সংসদের বাইরে রয়ে গেছে।
সংসদে এবার অনেক নতুন মুখ আসায় এবং অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতিতে নিয়মকানুন খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে বলে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে রুমিন বলেন, তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বড় পদ বা উচ্চবিত্তের চেয়ে সাধারণ মানুষের ‘হাঁস আপা’ হয়ে থাকাই তাঁর কাছে বড় সার্থকতা। দলের অতি-আবেগীয় সিদ্ধান্ত তাঁকে কষ্ট দিলেও, জনগণের ভালোবাসায় তিনি পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।





