পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে রাইয়ান তাঁর মা, বোন ও ভাগনেকে নিয়ে রাজবাড়ীর ভবানীপুর গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রাইয়ানের বড় বোন ডা. নুসরাত জাহান খান সাবা অলৌকিকভাবে বাস থেকে বের হতে পেরে বেঁচে যান। তবে চোখের সামনে মা, ভাই ও সন্তানকে হারাতে দেখে তিনি এখন বাকরুদ্ধ।
রাইয়ানের মামা আওয়াল আনোয়ার জানান, “বোন রেহেনা আক্তার ও ভাগনেরা সবাই মিলে ঢাকার বাসায় যাচ্ছিল। সাবা বের হতে পারলেও বাকিরা বাসের ভেতরেই আটকে পড়েছিলেন।”
আহনাফ রাইয়ান কেবল একজন ছাত্রই ছিলেন না, বরং সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক অঙ্গনের এক পরিচিত মুখ ছিলেন।
রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন বলেন, “রাইয়ান ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তুখোড় তার্কিক ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং অর্গানাইজেশনের (JU DO) সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।”
মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহপাঠী ও শিক্ষকরা এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রী বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রেলিং না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনতা ও নিহতের স্বজনরা।








