পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার এই গুরুত্বপূর্ণ মিশনে পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিরাপত্তাঝুঁকি ও কৌশলগত কারণে বৈঠকের স্থান হিসেবে পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্কের নামও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
গত ২৪ মার্চ, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি খসড়া পরিকল্পনা পাঠানো হয়। ওই প্রস্তাবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’-তে জানানো হয়েছে, তারা নিজস্ব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু বার্তা আদান-প্রদান হলেও তাকে কোনোভাবেই ‘আলোচনা’ বা ‘সংলাপ’ বলা যাবে না।
হোয়াইট হাউসের দাবি, আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা একটি ‘বিকল্প চ্যানেল’ বা সেকেন্ডারি পথ ব্যবহার করে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে চেষ্টা করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
চলমান সংঘাত বন্ধে পাকিস্তান ও তুরস্ক শুরু থেকেই প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গোপন ও প্রকাশ্য বার্তা আদান-প্রদানে ইসলামাবাদ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে ইরানের অনড় মনোভাব এবং ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষিতে বৈঠকের স্থান আঙ্কারাতেও স্থানান্তরিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারির রক্তক্ষয়ী হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে, অন্যদিকে ইরান নিজস্ব শর্তে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মরিয়া। এই রশি টানাটানির মধ্যে পাকিস্তানের সম্ভাব্য বৈঠকটি হতে পারে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর শেষ চেষ্টার উদ্যোগ।







