Search
Close this search box.

টকের সূক্ষ্ম ছোঁয়ায় জিলাপিতে ফিরেছে জাকির হোসেনের ভাগ্য

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহ শহরের জিলা স্কুল মোড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘মেহেরবান’ হোটেলের বড় কড়াইয়ে তেলে পাক খাচ্ছে জিলাপি। সোনালি রং ধরতেই তা তুলে ডুবানো হচ্ছে রসে। কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ হচ্ছে ক্রেতাদের সারি। ২৪ জন কর্মচারী থাকলেও দম ফেলার সুযোগ নেই। টক-মিষ্টি স্বাদের ছোট আকারের এই জিলাপি একবার খেলে বারবার ফিরে আসেন ক্রেতারা।

এই বিশেষ জিলাপির নাম ‘টক-মিষ্টি জিলাপি’, অনেকে একে ‘চুক্কা জিলাপি’ও বলেন। বিকেল নামার আগেই দোকানে শুরু হয় ভিড়, আর লাইন ধরে অপেক্ষা করতে হয় ক্রেতাদের। কখনো কখনো ঠেলাঠেলি ও হৈচৈও দেখা যায়।

এই ব্যতিক্রমী স্বাদের নেপথ্যে আছেন জাকির হোসেন (৫৯)। তিনি দোকানের মূল কারিগর। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি এই বিশেষ জিলাপির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

জানা যায়, জাকির হোসেন ১৯৭৩ সালে শহরে এসে চায়ের দোকানে কাজ শুরু করেন। পরে ১৯৭৪ সালে তিনি ‘মেহেরবান’ হোটেলে কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন। তখন দোকানে ডালপুরি, শিঙাড়া ও সাধারণ জিলাপি তৈরি হতো।

১৯৯২ সালের দিকে দোকানের মালিক ব্যবসা চালাতে না পেরে দায়িত্ব দেন জাকির হোসেনের ওপর। এরপর তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন কিছু করার চেষ্টা শুরু করেন।

একদিন বৃষ্টির কারণে ক্রেতা না আসায় তৈরি করা জিলাপির খামির অব্যবহৃত থেকে যায়। নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ময়দার সঙ্গে তেঁতুলের টক এবং মাসকলাই মিশিয়ে নতুন ধরনের জিলাপি তৈরি করেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় আজকের জনপ্রিয় টক-মিষ্টি জিলাপি।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই স্বাদ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। এখন এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং ময়মনসিংহ শহরের একটি পরিচিত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। ফলে একসময় ভাগ্য বদলের অনিশ্চয়তায় থাকা জাকির হোসেন আজ এই বিশেষ জিলাপির কারণেই পরিচিত এক নাম।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ