Search
Close this search box.

৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ: ‘জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী’ বলে জামায়াতের প্রতিবাদ

অহনা

দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, এই পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি অপচেষ্টা এবং এটি গণতন্ত্রের জন্য ‘গভীর অশনিসংকেত’।

সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৫ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই প্রজ্ঞাপন জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে সরকারের এক অনৈতিক অবস্থান।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল তাঁর বিবৃতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:

 জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক সংস্কার। কিন্তু সরকার নির্বাচনের পথে না হেঁটে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সেই চেতনার সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করছে।

জামায়াতের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এটি ভবিষ্যতে আরেকটি ‘পাতানো নির্বাচনের’ প্রাথমিক ধাপ হতে পারে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকারের এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক এবং এটি শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে।” জামায়াতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নিজেদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

উল্লেখ্য, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার কাঠামোর সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক ইঙ্গিতের মধ্যেই সরকারের এই নতুন নিয়োগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ