ভুটান সরকার নিজস্ব বিটকয়েন মাইনিং এবং একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল বা এসএআর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে’ প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে দেশটির নতুন ভিশন তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভুটান তার বিশাল নদীপথ ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। এই গ্রিন এনার্জি ব্যবহার করা হবে প্রস্তাবিত ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ নির্মাণে।
প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জলবিদ্যুৎ ও পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা। গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি গড়ে তোলা হচ্ছে ভারতের সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ ভুটানে। রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের উদ্যোগে নেওয়া এ পরিবেশবান্ধব নগর প্রকল্প আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সাজানো হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য সিঙ্গাপুরের কোম্পানি আইনের আদলে আইনি কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এছাড়া এই অঞ্চলের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিচার বিভাগ থাকবে এবং অন্তত ২০ বছর আইনি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে।
প্রকল্পের অন্যতম চমকপ্রদ দিক হলো ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার। ভুটান সরকার ২০১৯ সাল থেকে গোপনীয়ভাবে বিটকয়েন মাইনিং করছে। বিটকয়েন মাইনিংয়ের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যা ভুটানের পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুতের মাধ্যমে সহজলভ্য। সরকার এই ডিজিটাল মুদ্রাকে দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হিসেবে দেখছে।
করোনা মহামারীর কারণে পর্যটন খাতে আয়ের ধস এবং তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, গেলেফুতে একটি ‘ফিনটেক হাব’ বা আর্থিক প্রযুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কেন্দ্র দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং অর্থনীতিকে নতুন দিক দেখাবে।








