এর আগে ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে একটি সংবাদমাধ্যমে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ প্রকাশের পরদিনই তদন্তে নামে পদ্মা অয়েল। তদন্ত দলের সদস্যরা কুর্মিটোলা ডিপোর বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন এবং তেলবাহী গাড়ির চলাচল সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে ডিপোতে মজুত থাকা তেলের পরিমাণও পরিমাপ করে দেখা হয়। একইসঙ্গে ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত দল বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী গাড়িগুলোর গতিপথ এবং কুর্মিটোলা ডিপোতে প্রবেশ সংক্রান্ত তথ্য। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো ডিপোতে পৌঁছেছে বলে দেখানো হলেও বাস্তবে তা পৌঁছেছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।
পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজম বলেন, সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি এখনো চলমান রয়েছে। সব তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল সাধারণত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে তুলনামূলক কম মূল্যের হওয়ায় এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার (১১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে ছেড়ে যাওয়া অন্তত চারটি গাড়ি কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি।
ওই গাড়িগুলোর নম্বর হলো ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ এবং ৪১-০৬৯৮। তবে কাগজপত্রে দেখানো হয়েছে যে গাড়িগুলো ডিপোতে পৌঁছেছে। বাস্তবে ওই গাড়িগুলোতে থাকা তেল অন্যত্র পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি পুরনো সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাইদুল হকের বিরুদ্ধে এর আগেও তেল চুরির অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি তাকে সতর্ক করে চিঠি দেয় পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ।
এর আগেও কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিক তেল চুরির অভিযোগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানার সই করা চিঠিতে কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও এখনো সেই প্রতিবেদন জমা হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৮ মার্চও কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।








