Search
Close this search box.

খার্গ দ্বীপে হামলায় তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ, এশিয়ার অর্থনীতিতে চাপের আশঙ্কা

স্বপ্নিল

ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং এর বড় প্রভাব পড়তে পারে এশিয়ার আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না—এ নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বীপটির আকার ছোট হওয়ায় তেল রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর কোনো না কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক এড হির্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে তা পুরোপুরি সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “খার্গ দ্বীপ খুবই ছোট একটি এলাকা। সেখানে যদি ছোটখাটো কিছু সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে, তবুও তেল রপ্তানির অবকাঠামো পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে—এটা কল্পনা করা কঠিন।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি হলো খার্গ দ্বীপ। এখান থেকেই দেশটির অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। ফলে এই দ্বীপে হামলার ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

এড হির্স আরও বলেন, যদি এই হামলার ফলে ইরানের তেল রপ্তানির সক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একই সময়ে ইরাক ও কুয়েতের তেল সরবরাহও বন্ধ বা সীমিত থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তার ভাষায়, “যদি ইরানের রপ্তানি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একই সঙ্গে ইরাক ও কুয়েতের সরবরাহও বন্ধ থাকে, আর যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে থাকে—তাহলে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়তেই থাকবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর ওপর। কারণ চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলো বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য আমদানি করে থাকে।

হির্স সতর্ক করে বলেন, “এশিয়ার অর্থনীতিগুলো বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে এসব দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি চাপ সৃষ্টি হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এর ফলে শুধু জ্বালানি খাতই নয়, পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ