Search
Close this search box.

ইইউতে কমেছে পোশাক রফতানি, অপ্রচলিত বাজারেও বড় ধাক্কা

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে কিছুটা নিম্নগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে রফতানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রফতানি প্রবৃদ্ধিতে চাপ তৈরি হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম

অপ্রচলিত বাজারে রফতানি কমেছে, মোট রফতানি থেকে প্রায় ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ এসেছে এসব বাজার থেকে। তবু কিছু দেশে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে যেমন ব্রাজিলে ২৩ দশমিক ৩১ শতাংশ, চীনে ২১ দশমিক ৫১ শতাংশ, সৌদি আরবে ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। অপরদিকে রাশিয়ায় রফতানি কমেছে ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ, তুরস্কে ২৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ, মেক্সিকোতে ১৬ দশমিক ৮২ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়াতে ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়াতে ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে লোহিত সাগর, সুয়েজ খালসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া আকাশপথেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেছে। দুবাই বিমানবন্দর কার্যত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে এবং কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইত্তিহাদসহ বড় এয়ারলাইনগুলো বহু ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফলে ইউরোপসহ অন্যান্য বাজারে নির্ধারিত পোশাক চালান ঢাকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিমানবন্দরে আটকে পড়ছে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। আলোচ্য সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে মোট ১২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে যা মোট রফতানির প্রায় ৪৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বাজারে রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কিছু দেশে বৃদ্ধি দেখা গেছে যেমন স্পেনে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ, স্লোভেনিয়াতে ৪৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, অস্ট্রিয়াতে ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অপরদিকে জার্মানি ১২ দশমিক ২০ শতাংশ, ফ্রান্স ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ, ডেনমার্ক ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ, ইতালি ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ, বেলজিয়াম ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ কমেছে

যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রফতানি হয়েছে ৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার যা মোট রফতানির প্রায় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, আগের বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে ০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে রফতানি বেড়েছে ১ দশমিক ২২ শতাংশ এবং কানাডায় ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়েছে

পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে নিটওয়্যার ও ওভেন উভয় খাতেই রফতানি কমেছে। নিটওয়্যার ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ওভেন ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে। খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতি রফতানিতে চাপ তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে নতুন বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের বৈচিত্র্য ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদার করা জরুরি



সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ