Search
Close this search box.

প্যানিক বায়িং বন্ধ হলেই সরবরাহ ও চাহিদার সামঞ্জস্যতা ফিরবে

আসছে ২.৮০ লাখ টন ডিজেল, পেট্রোল-অকটেনও পর্যাপ্ত

চলতি মার্চ মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের আমদানি নিশ্চিত করেছে সরকার। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), যার কিছু অংশ ইতিমধ্যে দেশে আসতে শুরু করেছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়া, জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেন আমদানি করার প্রয়োজন হয় না। নিজস্ব উৎস থেকে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেন দিয়েই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটে। তাই এই দুটি জ্বালানির ক্ষেত্রেও সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং অপারেশন উইংয়ের প্রধান মনির হোসেন চৌধুরী শনিবার জানান, বাংলাদেশে মাসে ৩.৮০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বিপিসির কাছে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুদ আছে। এর বাইরে ২.৮০ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে কোনো দেশ থেকে কী দরে এসব তেল কেনা হচ্ছে, তা জানাননি তিনি।

বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘২.৮০ লাখ টন ডিজেলের মধ্যে কিছু তেল ইতিমধ্যে আসা শুরু হয়েছে। কিছু সমুদ্রে জাহাজে রয়েছে এবং কিছু জাহাজীকরণ অবস্থায় আছে। ফলে মার্চ মাসে বাংলাদেশে ডিজেলের সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আরও চারটি জায়গা থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এখন সরবরাহকারীদের সঙ্গে ডকুমেন্ট লেনদেন পর্যায়ে আছে। ফলে ডিজেল নিয়ে সংকটের কোনো কারণ নেই এবং কেউ বাড়তি ডিজেল না কিনলে পাম্পগুলোতে সংকট হওয়ারও কোনো কারণ নেই।’

তবে বাজারে বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ মনে করছে, ‘বাইকাররা অযথা পেট্রোল পাম্পে ভিড় করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। তাদের প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হলেই সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্যতা ফিরবে।’

এছাড়া, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করায় আপাতত গ্যাস সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান কর্মকর্তারা। এছাড়া, নভেম্বর পর্যন্ত সারের মজুদ থাকায় সরকার সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ।

এদিকে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে জানা গেছে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ