তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্রটি কাজের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ইউরো (প্রায় ২০ লাখ টাকা) পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, ঘুষ হিসেবে শুধু নগদ অর্থ নয়, বরং বিলাসদ্রব্যের ছড়াছড়ি ছিল:
-
নিয়োগকর্তাদের ভাগ: ‘নুল্লা ওস্তা’ (কাজের অনুমতিপত্র) সংগ্রহের জন্য ইতালীয় নিয়োগকর্তাদের দেওয়া হতো ৪–৫ হাজার ইউরো।
-
বিলাসবহুল উপহার: কর্মকর্তাদের তুষ্ট করতে দামি ঘড়ি, টেলিভিশন, দামী গাড়ি এমনকি দুবাই ভ্রমণের মতো সুবিধাও দেওয়া হতো।
-
পুলিশি সুবিধা: ফাইল দ্রুত ছাড়াতে প্রিফেকচার বা পুলিশ কর্মকর্তাদের ৩০০ ইউরো পর্যন্ত ঘুষ দেওয়ার তথ্য মিলেছে।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ইসলামের জবানবন্দি থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ২০২২ সালে ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাসের তৎকালীন কর্মী নিকোলা মুসকাতেল্লোকে ১০ হাজার ইউরো নগদ ঘুষ দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি। ৪০টি ভিসা অনুমোদনের বিনিময়ে মোট ৩০ হাজার ইউরো চুক্তির তথ্য এখন আদালতে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দূতাবাসের ভেতর থেকেই এই চক্রকে সহায়তা করা হতো।
এই পুরো কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে ইতালির সংসদ সদস্য আন্দ্রেয়া দি জুসেপ্পের দৃঢ়তায়। জালিয়াতি চক্রটি তাকে প্রায় ২০ লাখ ইউরো (প্রায় ২৬ কোটি টাকা) ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন, যার ফলে শুরু হয় এই বিশাল তদন্ত।
তদন্ত এখনও চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট ইতালীয় কর্মকর্তা ও অসাধু মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ইতালির সরকার এই ঘটনার পর ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আরোপ করতে পারে। প্রবাসপ্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি সরকারি ও বৈধ পথে আবেদন করেন।








