মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের কারিগরি সহযোগিতায় সূচকটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে কৃষি, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। আগের মাসে সংকোচনের পর নির্মাণ খাতও আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে। তবে সব খাতেই প্রবৃদ্ধির গতি আগের তুলনায় কিছুটা মন্থর হয়েছে।
কৃষি খাতে টানা পঞ্চম মাসের মতো সম্প্রসারণ দেখা গেলেও প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। নতুন ব্যবসা ও কার্যক্রম বাড়লেও কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন উপকরণ ব্যয় সূচকে সংকোচনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
উৎপাদন খাত টানা ১৭তম মাসের মতো সম্প্রসারণে রয়েছে। নতুন অর্ডার, কারখানা উৎপাদন, আমদানি, উৎপাদন উপকরণের মূল্য এবং সরবরাহকারীদের ডেলিভারিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে নতুন রপ্তানি, উৎপাদন উপকরণ ক্রয়, সমাপ্ত পণ্য ও কর্মসংস্থানে সংকোচন লক্ষ্য করা গেছে।
নির্মাণ খাতে নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম এবং উৎপাদন উপকরণ ব্যয়ে সম্প্রসারণ হলেও কর্মসংস্থান ও অর্ডার ব্যাকলগ সূচকে দুর্বলতা রয়ে গেছে।
পরিষেবা খাত টানা ১৬তম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে এবং এই খাতে প্রবৃদ্ধির গতি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। নতুন ব্যবসা, কার্যক্রম, কর্মসংস্থান, উৎপাদন উপকরণ ব্যয় ও অর্ডার ব্যাকলগ—সব সূচকেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী মনোভাবের কথা বলা হয়েছে। কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও পরিষেবা—সব খাতেই ব্যবসায়ীরা সামনের মাসগুলোতে তুলনামূলক দ্রুততর সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করছেন।
তবে উত্তরদাতাদের মতে, সার্বিক ব্যবসায়িক পরিবেশ এখনো দুর্বল ও অনিশ্চিত। কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খরচ বাড়ছে, কিন্তু বিক্রি প্রত্যাশামতো বাড়ছে না। আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক অর্ডার স্থগিত রাখা হচ্ছে, বিনিয়োগে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে এবং ক্রেতারাও অপেক্ষার কৌশল নিচ্ছেন। উচ্চ ব্যয় ও নগদ অর্থ সংকট ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, সর্বশেষ পিএমআই সূচকগুলো অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের গতি শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ধীর পুনরুদ্ধার ও সতর্ক অর্ডার প্রদানের কারণে উৎপাদন খাতের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেরিতে ধান কাটার ফলে কৃষি খাতেও কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সব খাতে ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ অর্থনীতিতে টেকসই আশাবাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।






