Search
Close this search box.

‘চেয়ারম্যান থাকলে বন্দর নয়, দেশও বিক্রি হয়ে যাবে’—সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গুরুতর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাবেক বন্দর সিবিএ নেতা মো. হুমায়ুন কবির। তিনি দাবি করেছেন, বন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বিদেশি প্রভাব তৈরি করা হয়েছে এবং একটি বিতর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ তৈরি করা হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বোর্ড অব ডিরেক্টরসে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে এবং এই বোর্ডে একজন বিদেশি সদস্য থাকার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় বন্দর চেয়ারম্যানের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, বন্দর পরিচালনার একটি বড় প্রকল্পে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করার নামে ভিন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত চুক্তির কাগজপত্রে এসেছে ডিপি ওয়ার্ল্ড এফ জেড ই নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যা মূল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সিস্টার কনসার্ন। এতে করে প্রকৃত ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে না এসেও চুক্তি কার্যকর করার অভিযোগ উঠেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে এই চুক্তি বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের কমিশন লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চুক্তির রিকুইজিশন পেপারে স্বাক্ষর আদায়ের জন্য বিডা অফিসে বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের চাপের মুখে রাখা হয়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, একাধিক কর্মকর্তা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সেখানে দীর্ঘ সময় আটকে ছিলেন এবং পরে বাধ্য হয়ে স্বাক্ষর দিতে হয়েছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড এফ জেড ই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ডিপি ওয়ার্ল্ডের অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে হলেও এফ জেড ই নামের প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেমন কোনো পরিচিতি বা অবস্থান নেই। তার মতে, এভাবে একটি তুলনামূলক দুর্বল বা নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তি করায় দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে কড়া ভাষায় তিনি সতর্ক করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকলে শুধু বন্দর নয়, জাতীয় স্বার্থও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দর চেয়ারম্যান যদি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকেন এবং দায়িত্বে বহাল থাকেন, তাহলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা, আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রক্রিয়া এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও তদন্তের দাবি তুলেছেন বিভিন্ন মহল।



সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ