আন্দোলনকারীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টার আশ্বাসে ধর্মঘট স্থগিত করা হলেও এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৫ শ্রমিক নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তে দুদককে চিঠি দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এছাড়া ১৫ শ্রমিককে শাস্তিমূলকভাবে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হলেও তারা কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে অনড় রয়েছেন।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন অভিযোগ করে বলেন:
“আজ সকাল থেকে কোনো কাজ হচ্ছে না। তবে আন্দোলন দমাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের দুজন নেতাকে (শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ) তুলে নিয়ে গেছে।”
গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ জট সৃষ্টি হয়েছে:
-
আটকা পড়া কনটেইনার: বন্দর ও বেসরকারি ডিপো মিলিয়ে প্রায় ৫১ থেকে ৫৪ হাজার টিইইউস কনটেইনার আটকা পড়েছে।
-
জাহাজ জট: বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে, যা সময় বাড়ার সাথে সাথে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
-
পণ্য খালাস: জেটিতে থাকা জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়েও শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে পুনরায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সামনে পবিত্র রমজান মাস এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের লাইফলাইন খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের এই অচলাবস্থা অর্থনীতিকে মহাসংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়তে পারে এবং বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।






