Search
Close this search box.

ইজারা বাতিল ও ধরপাকড়ের প্রতিবাদে ফের অচল চট্টগ্রাম বন্দর: চরম সংকটে অর্থনীতি

অহনা

সাত দিন ধরে চলা অস্থিরতার পর নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করা হলেও মাত্র দুদিনের মাথায় আবারও অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দাবিতে আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

ধর্মঘটের ফলে বন্দরের জেটিগুলোতে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বন্দরের ভেতরে কোনো পণ্যবাহী ট্রেলার প্রবেশ করছে না এবং ডেলিভারি কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টার আশ্বাসে ধর্মঘট স্থগিত করা হলেও এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১৫ শ্রমিক নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তে দুদককে চিঠি দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এছাড়া ১৫ শ্রমিককে শাস্তিমূলকভাবে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হলেও তারা কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে অনড় রয়েছেন।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন অভিযোগ করে বলেন:

“আজ সকাল থেকে কোনো কাজ হচ্ছে না। তবে আন্দোলন দমাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের দুজন নেতাকে (শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ) তুলে নিয়ে গেছে।”

গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ জট সৃষ্টি হয়েছে:

  • আটকা পড়া কনটেইনার: বন্দর ও বেসরকারি ডিপো মিলিয়ে প্রায় ৫১ থেকে ৫৪ হাজার টিইইউস কনটেইনার আটকা পড়েছে।

  • জাহাজ জট: বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে, যা সময় বাড়ার সাথে সাথে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

  • পণ্য খালাস: জেটিতে থাকা জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়েও শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে পুনরায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সামনে পবিত্র রমজান মাস এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের লাইফলাইন খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের এই অচলাবস্থা অর্থনীতিকে মহাসংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়তে পারে এবং বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ