Search
Close this search box.

বিশ্বের কোন দেশে ভোটিং পদ্ধতি কেমন

হাবিবা

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। এবার ভোটিং পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে পোস্টাল ব্যালট। এতে প্রবাসীরাও ভোট প্রদান করতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোটিং পদ্ধতির ভিন্নতা রয়েছে। সবচেয়ে ভালো ভোটিং পদ্ধতি কোনটি, এই প্রশ্নের এখনো সমাধান মেলেনি। বিশ্বব্যাপী ভোটের ইতিহাসের নানা রঙিন অধ্যায় নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা।

 

মার্বেল দিয়ে ভোট
কখনো কি শুনেছেন মার্বেল দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা? অবাক করার মতো বিষয় হলেও সত্যিই এমনই এক প্রথা আছে আফ্রিকার গাম্বিয়াতে। এই পদ্ধতিটি খুব সাধারণ কিন্তু ভোট কারচুপি করা খুব জটিল। এতে প্রত‍্যেক প্রার্থীর জন্য আলাদা আলাদা পাত্র থাকবে। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাইলে প্রার্থীর পাত্রে মার্বেল ফেলবে। কারচুপি বা একাধিক ভোট এড়াতে ভোটারদের আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে দেওয়া হবে। দেশটিতে শিক্ষার হার কম থাকায় ১৯৬৫ সালে এ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ চালু করে ব্রিটিশরা। দেশটিতে ২০২১ সালে এ পদ্ধতিতে সফলভাবে ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল। দেশটির জনগণ এ পদ্ধতিতে ভোট দিয়েই অভ্যস্ত।

নির্বাচনে প্রার্থী থাকেন একজনই

আরেক অদ্ভুত ভোট পদ্ধতি চালু আছে উত্তর কোরিয়ায়। এখানে ৪-৫ বছর পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৮ বছরের উপরে সবার ভোট প্রদান বাধ্যতামূলক। ভোটের দিন সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দেশটির আজব রীতি হলো-নির্বাচনে প্রার্থী থাকেন একজনই। তার দলের নাম ওয়ার্কার্স পার্টি। ভোট তাকেই দিতে হবে। সরকারি তালিকার বাইরে এতে অন্য কোন প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। ভোট না দিলে সেখানে হতে পারে জেল জরিমানা। বিরোধী দল বলেও কিছু নেই। ফলাফল যা হবার তাই হয়, শতভাগ ভোটে পাস করে সুপ্রিম লিডার কিম জং উন। যদিও দেশের পুরো নাম ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া।

মাসব্যাপী ভোট

ভোটগ্রহণ সাধারণত একদিনেই শেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক দেশই এই নিয়ম অনুসরণ করে। কিছু দেশে দুই/তিন ভাগেও ভোট হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৩০/৪০ দিনব্যাপী ভোট শুধু পৃথিবীর একটি দেশেই হয়। সেটি হচ্ছে ভারত যা, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সে দেশের প্রত‍্যন্ত অঞ্চলে ভোটগ্রহণকারীরা ছড়িয়ে পরে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, আয়তনে বড় ও অনেক অঞ্চল দূর্গম হওয়ায় এতো সময় লাগে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাদের সময় লেগেছে ৪৪ দিন। বিষ্ময়কর হলেও সত‍্য, ১৯৫১-৫২ সালে, প্রথম ভোটগ্রহণ করতে ভারতের সময় লেগেছিল ৪ মাস! ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতের বিভিন্ন রেকর্ড আছে। যেমন-সবচেয়ে উঁচুতে ভোট কেন্দ্র স্থাপন, সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে ভোট কেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি।

মহাকাশ থেকে ভোটপ্রদান

সময় বদলে গেছে, পৃথিবীর মানুষ এখন মহাকাশেও ঘাঁটি গেড়েছে। কিন্তু দেশের নাগরিক হিসেবে তাদেরও তো ভোটপ্রদানের অধিকার আছে। মহাকাশে থেকে ভোটগ্রহণের রেকর্ড একমাত্র আমেরিকার। মার্কিন নভোচারী ডেভিড উলফ, ১৯৯৭ সালে প্রথমবার মহাকাশ থেকে ভোট দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কেন্ট রুবিনস, উইলমোর ও সবশেষ ২০২৪ নির্বাচনে সুনিতা উইলিয়ামস মহাকাশে থেকে ভোট দিয়েছেন। মহাকাশ থেকে ভোটপ্রদানের মাধ‍্যম হচ্ছে অনলাইন। তবে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এক্ষেত্রে সবধরনের গোপনীয়তা রক্ষা করা

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ