ম্যান্ডেলসন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন গত বছর পর্যন্ত। এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশিত হলে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করেছে, যেখানে ম্যান্ডেলসনের নাম ও ছবি দেখা গেছে। এক নথি অভিযোগ করে, তিনি যুক্তরাজ্যের বাজার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যও এপস্টেইনের কাছে পাঠিয়েছিলেন। ব্রিটিশ পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
দলীয় এমপিদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, কারণ স্টারমার এ বিষয়ে জানলেও ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরীণ চাপে পদত্যাগের উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, বরিস জনসনের আমলে ডেপুটি চিফ হুইপ ক্রিস পিঞ্চারের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগে কনজারভেটিভ পার্টি অভ্যন্তরীণ আস্থা হারিয়েছিলেন। লেবার এমপিরা বলছেন, ম্যান্ডেলসন ও স্টারমারের এই ঘটনা তার চেয়েও গুরুতর।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে হাউস অব কমনসের অধিবেশনে স্টারমার স্বীকার করেছেন, ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের আগে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কে তিনি জানতেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পাওয়ার আগে এবং পরে ম্যান্ডেলসন বারবার মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। স্টারমারও তাঁর সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত।
যদিও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও কিছু বিশ্লেষক বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ এখনও নিরাপদ। ম্যান্ডেলসনের প্রতারণার বিষয়টি আলাদা। ব্রিটিশ আবাসন মন্ত্রী স্টিভ রিড বলেন, স্টারমার দৃঢ়তা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে প্রশ্ন নয়, বরং ম্যান্ডেলসনের প্রতারণা নিয়ে মনোযোগ থাকা উচিত।
এ পরিস্থিতিতে এপস্টেইন কেলেঙ্কারির প্রভাব কেবল লেবার পার্টির নয়, সমগ্র ব্রিটিশ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনায় জনবিশ্বাস ও পার্টির অভ্যন্তরীণ সংহতি প্রভাবিত হতে পারে।








