চা-বাগান শ্রমিকরা এবার এমন প্রার্থী চাইছেন, যিনি শুধু কথা বলবেন না, বাস্তব কর্মের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। তারা উল্লেখ করেন, প্রার্থীরা কেবল নির্বাচনের সময় তাদের খোঁজ নেন; ভোট শেষ হলে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকে।
শ্রমিকরা সিলেটের বিভিন্ন চা-বাগানের ভাঙাচোরা সড়ক, নিরাপদ পানির অভাব, পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অনুপস্থিতি, স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ নানা সমস্যা প্রতিদিনের বাস্তবতায় মোকাবিলা করছেন। সিলেট বিভাগের ১৫৮টি চা-বাগানে কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করেন।
চন্ডিছড়া চা-বাগানের রতন ঘাটোয়াল বলেন, “পরিবার চালাতে নিজের ছয় মাসের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কাজে যেতে হয়। ভোটের পর প্রার্থীরা আমাদের পাশে থাকে না।” আরেক শ্রমিক মেঘনা মৃধা বলেন, তারা এখনও ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। নোয়াপাড়া চা-বাগানের নয়ন বাউরি বলেন, এবার শ্রমিকরা আরও সতর্ক থাকবেন এবং প্রকৃতভাবে উন্নয়নে কাজ করা প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
মৌলভীবাজারের চাতলাপুর চা-বাগানের তরুণ সুমন গোয়ালা বলেন, “পর্যটন খাত যদি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হতো, তাহলে কাজের খোঁজে আমাদের এলাকা ছাড়তে হতো না।” সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর কমলগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মল এস পালাশ বলেন, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি উদ্যোগ খুবই সীমিত।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
-
বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও যুবকদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
-
মৌলভীবাজার-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশ নির্বাচিত হলে চা-শ্রমিক ও খাসিয়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, পর্যটন আধুনিকীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
-
একই আসনের বাসদ প্রার্থী মো. আবুল হাসান চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ভূমির মালিকানা অধিকার নিশ্চিতকরণ, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পরিকল্পিত পর্যটন উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন।
শ্রমিকরা এবার ভেবেচিন্তে ভোট দেবেন এমন প্রার্থীকে, যে শুধু নির্বাচনী বাক্য নয়, বাস্তব কর্মের মাধ্যমে তাদের জীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম।








