শনিবার বিকেলে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে নারীদের বিষয়ে আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশিত হয়। সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্ট ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করে। জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে; পরে জানানো হয়, এটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের ঘটনা।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে হ্যাকাররা পোস্ট দেন। ওই সময় জামায়াতের আমির কেরানীগঞ্জের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন, যার লাইভ ভিডিও পোস্টের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে জামায়াতের IT টিম অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হ্যাকের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
জামায়াতের তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মাহমুদুল আলম বলেছেন, “হ্যাক হয়নি অ্যাকাউন্ট, বরং ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল। ওই ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট লগইন থাকা অবস্থায় পোস্ট করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসলে দ্রুত সেশন শেষ করা হয় এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়।”
তদন্তে দেখা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গভবনের সরকারি ইমেইল থেকে জামায়াতের আমিরের ইমেইলে একটি ফিশিং মেইল আসে। এতে ‘নির্বাচন-সংক্রান্ত জরুরি তথ্য’ লেখা ছিল। মেইলে থাকা অ্যাটাচমেন্ট খোলার ফলে ডিভাইস হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এ একই ইমেইল ব্যবহার করে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াত প্রার্থীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও হ্যাকের চেষ্টা করা হয়েছিল।
মোহাম্মদ ছরওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। জামায়াত দল জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সরকারিভাবে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।







