‘
সূরা দুখানের ২-৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।’ বিখ্যাত তাফসিরবিদদের মতে, এখানে ‘বরকতময় রাত’ বলতে শবেবরাতকে বোঝানো হয়েছে। এই রাতে মহান আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্য বান্দার জীবন, মৃত্যু ও রিজিকসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
অপ্রয়োজনে সময় ব্যয় না করে এই পবিত্র রাতে আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা উচিত। নফল ইবাদতের মধ্যে নামাজই শ্রেষ্ঠ। তাই এই রাতে তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ ও সালাতুল হাজাতসহ অন্যান্য নফল নামাজ পড়া মোস্তাহাব। নামাজের কিরাত ধীরগতিতে পড়া এবং রুকু-সেজদা দীর্ঘ করা এই রাতের শোভাবর্ধন করে।
এ ছাড়া অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ, তওবা-ইস্তিগফার এবং জিকির-আজকারে মগ্ন থাকা বাঞ্ছনীয়। নিজের জন্য, জীবিত ও মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও দেশের কল্যাণে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার এটিই শ্রেষ্ঠ সময়।
শবেবরাত মূলত ব্যক্তিগত ইবাদতের রাত। এই রাতে মসজিদে গিয়ে সমবেত ইবাদত বা জামাতের কোনো আবশ্যকতা নেই। শবেবরাতের বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট সূরা বা রাকাত সংখ্যার বাধ্যবাধকতা ইসলামে নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পবিত্র রাতে আতশবাজি, পটকাবাজি, অহেতুক আলোকসজ্জা, মরিচবাতি জ্বালানো বা কবরে পুষ্প অর্পণের মতো কাজগুলো করা যাবে না।
অনেকে এই রাতে হালুয়া-রুটি বা মিষ্টান্ন বিতরণের ধুমধামে মত্ত থাকেন, যা অনেক সময় ইবাদতের পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করে। যুবকদের রাস্তাঘাটে আড্ডা বা শোরগোল ইসলাম পরিপন্থি কাজ। মনে রাখতে হবে, শবেবরাত আনুষ্ঠানিকতার রাত নয়, বরং আল্লাহর দরবারে মাথা নত করে চোখের পানি ফেলার রাত।
রাসূলুল্লাহ (সা.) একাকী জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে কবর জিয়ারত করেছেন, কিন্তু কাউকে ডেকে নিয়ে যাননি বা আনুষ্ঠানিকতা করেননি। তাই ব্যক্তিগতভাবে একাকী কবর জিয়ারতে কোনো বাধা নেই, তবে একে সামাজিক রেওয়াজে পরিণত করা সমীচীন নয়।








